বাংলাদেশী ও ভারতীয় উপন্যাসের ভান্ডার

বাংলাদেশ ও ভারতীয় লেখকদের যেকোন উপন্যাস এর পিডিএফ বই ডাউনলোড করে নিন এখান থেকে। এখানে প্রায় ১লক্ষের উপর  বাংলা বই যুক্ত করা রয়েছে। ডাউনলোড করার পাশাপাশি অনলাইনে পড়তেও পারবেন। নিচে কিছু জনপ্রিয় উপন্যাস এর নাম উল্লেখ করা হলো। উপন্যাস গুলো ডাউনলোড করে পরে দেখার অনুরোধ রইলো।

। প্রথম আলো :- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি এই সত্যাশ্রয়ী উপন্যাসটি দুই খন্ডে বিভক্ত। ঊনবিংশ শতাব্দী এবং বিংশ শতকের প্রথমদিকের কলকাতা তথা ভারতবর্ষের বিখ্যাত কিছু ঐতিহাসিক চরিত্র হেঁটে চলে বেড়ান এই উপন্যাসের পাতায় পাতায়। রবীন্দ্রনাথ থেকে লর্ড কার্জন, স্বামী বিবেকানন্দ থেকে মহাত্মা গান্ধী, সুনীলের অনবদ্য লেখনী শৈলীর গুণে জীবন্ত হয়ে উঠেছে প্রতিটি চরিত্র। আমার আপনার মত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য রয়েছে ভরত বা দ্বারিকানাথ বা ভূমিসুতার মত সাধারণ মানুষেরাও। উপন্যাসটি যাতে ইতিহাসের ভারে নুয়ে না পড়ে, সাহিত্যগুন যাতে ষোল আনা বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করেছে সুনীলের অনবদ্য লেখনী। বাঙালির নবজাগরণের উপর রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম হিসেবেই পরিগণিত এই উপন্যাস। সুনীল নিজেই উপন্যাসটির ভূমিকায় স্বীকার করেছেন যে, এই উপন্যাসটির তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁকে লন্ডনের ব্রিটিশ লাইব্রেরীতে পর্যন্ত হানা দিতে হয়েছিল। তৎকালীন বাংলার বুদ্ধিজীবী সমাজ, তাঁদের কার্যকলাপ, ইংরেজ শাসকদের মনোভাব, রবীন্দ্রনাথ সহ ঠাকুর পরিবারের বিবিধ সামাজিক, ধর্মীয় এবং অবশ্যই সাহিত্যিক কার্যকলাপ, গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনবদ্য প্রতিভার ফলস্বরূপ বাংলা নাটকের উত্থান ও স্টার থিয়েটারের আদিযুগ, স্বামী বিবেকানন্দ ও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কার্যাবলী ও বেলুড় মঠের প্রতিষ্ঠা, ভগিনী নিবেদিতা ও বিবেকানন্দের যৌথ সামাজিক আন্দোলন ও পরবর্তীকালে বেলুড়ের সাথে বিচ্ছেদ, বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপট, তরুণ মহাত্মা গান্ধী – সুনীলের অনবদ্য লেখনী ছুঁয়ে গেছে প্রতিটি কোণ। নিজেদের শিকড়ের খোঁজ করলে পড়তেই হবে এই ক্লাসিক। 
।পথের পাঁচালি এবং অপরাজিত:- আবেগী বাঙালির খুব কাছের এই উপন্যাসদ্বয়। একত্রে এই দুই উপন্যাসকে উল্লেখ করার কারণ, একে অপরের সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে যুক্ত, একটিকে ছাড়া অপরটির অস্তিত্ব ভাবা যায় না। অমর ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিরকালীন সৃষ্টি অপু এবং তার কাহিনী। শিশু অপু, তার বড় হয়ে ওঠা, দারিদ্র্যের সাথে মরিয়া লড়াই, সাংসারিক জীবনে প্রবেশ করা এবং কালক্রমে বিখ্যাত ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতিলাভ, অপুর জীবনের এই পুরো জার্নির সঙ্গী নিজের অজান্তেই যেন হয়ে যাই আমরা। টুকরো টুকরো ঘটনা অঙ্কনে বিভূতিভূষণ সম্ভবত বাংলা সাহিত্যে অন্যতম সেরার স্থান অধিকার করবেন। গল্প বলার এমন অনবদ্য নিদর্শন খুব কমই দেখা যায়। বাংলা সাহিত্যে কিছু অমর দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে এই দুই উপন্যাস। বালক অপু ও তার দিদির আম কুড়ানোর দৃশ্য, তাদের একত্রে ট্রেন দেখার ঘটনা পাঠক হাজার চেষ্টা করেও ভুলতে পারবেন না। ঠিক তেমনই দিদি দুর্গার মৃত্যু, নিশ্চিন্দিপুর ত্যাগ করার সময় মৃতা দিদির জন্য অপুর বুক ফাটা অনুভূতির কাহিনী পড়তে পড়তে চোখ আর্দ্র হয়নি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। পরবর্তীকালে টিকে থাকার দাঁতে দাঁত চাপা লড়াই, অপুর স্ত্রী অপর্ণার অকালমৃত্যু, পুত্র কাজলের মধ্যে অপুর নিজের শৈশবকে খুঁজে পাওয়া – প্রত্যেকটা ঘটনাই যেন পাঠককে সম্পৃক্ত করে দেয় চরিত্রগুলির সাথে। বাংলা সাহিত্যের রূপ রস গন্ধের খোঁজ পেতে চাইলে ঝটপট পড়ে ফেলুন এই দুই উপন্যাস। 
।পুতুলনাচের ইতিকথা:- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত এই উপন্যাসটি একেবারেই আলাদা কারণ, অন্য উপন্যাস বা সাহিত্যকর্মের সাথে এর মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বজ্রাঘাতে মৃত্যুর দৃশ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ অবধি রয়েছে একাধিক চমক, টুইস্ট এবং জটিলতা। গ্রামের নাস্তিক ও আধুনিক মনস্ক ডাক্তার শশী, তার কন্যা কুসুম সহ একাধিক চরিত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক, জটিল সামাজিকতা, গ্রাম্য দলাদলি তাঁর বামপন্থী মানসিকতা থেকে বিচার করেছেন মানিক। পরকীয়া প্রেমের উল্লেখ রয়েছে এই উপন্যাসে, যদিও  তার পরিবেশন অনবদ্য। ” শরীর, শরীর, তোমার মন নাই কুসুম? “, এই উক্তিটি তো প্রবাদবাক্য হিসেবে এখন পরিগণিত হয়। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা এই উপন্যাস। 
৪। আরণ্যক:- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উপন্যাসটি সম্পর্কে বলা হয় যে, সম্পূর্ণ বিশ্ব সাহিত্যে এই উপন্যাসটি অনন্য। সেই অর্থে এই উপন্যাসে কোনও নায়ক নেই, প্রকৃতি স্বয়ং এখানে নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ। এক শহুরে যুবকের একরাশ বিরক্তি সহ কর্মসূত্রে জঙ্গলমহলে আগমন, এবং কালক্রমে প্রকৃতির প্রেমে কর্মক্ষেত্র কেই আপন করে নেওয়ার অসাধারন কাহিনী একটি অবশ্যপাঠ্য। বিভূতিভূষণের নিজস্ব অভিজ্ঞতার অসামান্য প্রভাব আছে এই উপন্যাসে। অরণ্য ও তার সন্তানদের কাহিনীই এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। প্রকৃতি ও মানুষের পারস্পরিক সাহচর্যের এমন জীবন্ত দলিল আর দেখা যায় না। রাজু পাঁড়ে, সত্যচরণ, মটুকনাথ, দোবরু পান্নার মত চরিত্রগুলি বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। ঘটনা বর্ণনা করতে বিভূতিভূষণের জুড়ি নেই। এই উপন্যাসেও একাধিক ঘটনা পাঠকের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ পূর্ণিমার রাতের চন্দ্রালোকে ভেসে যাওয়া অরণ্য প্রান্তরের মধ্য দিয়ে অশ্বারোহণের বর্ণনাকে উল্লেখ করা যায়। প্রকৃতির সাথে রোম্যান্সের এই কাহিনী জানতে হলে ঝটপট পড়ে ফেলুন এই উপন্যাস। 
 ৫। পদ্মানদীর মাঝি :- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভবত সর্বাধিক জনপ্রিয় উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রায় সব ভারতীয় প্রধান আঞ্চলিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।  অন্য কোনও বাংলা সাহিত্যকর্ম এত বেশি ভাষায় অনূদিত হয় নি। উপন্যাসটির মধ্যে এক রোমান্টিক রহস্যময়তা আছে। পূর্ববঙ্গের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কাহিনীতে শুধু যে পদ্মানদী কেন্দ্রিক মৎস্যজীবীদের কাহিনী বর্ণিত আছে তাই নয়, তাদের কাছে জীবনের কি অর্থ, তাই নিয়ে বামপন্থী দৃষ্টিভঙ্গিতে এক অনবদ্য পরিবেশনা বলা যেতে পারে উপন্যাসটিকে। মূল চরিত্র কুবেরের একইসাথে পরিবারের প্রতি ভালবাসা ও কপিলার প্রতি এক আদিম আকর্ষণ মনস্তত্ত্বের জটিলতাকে হাজির করেছে। হোসেন মিয়ার নিষিদ্ধ দ্বীপ, যেখানে কুবের ও কপিলা খুঁজে পায় তাদের জীবনের সার্থকতা, যেন এক শ্রেণীহীন ও বন্ধনহীন সমাজের প্রতিচ্ছবি। মানিকের বামপন্থার তীব্রতম প্রকাশ এই সৃষ্টি, যেখানে পরকীয়া প্রেমের মধ্য দিয়ে প্রচলিত সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে শ্রেণীহীন সমাজে মুক্তির স্বাদ অর্জনের আখ্যান বর্ণিত। 

Continue Reading

Related Books Articles See all Articles

line.svg